ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার স্বপ্ন গুড়িয়ে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০১৮ জুলাই ০৪ ১০:৩৭:৪৪
টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার স্বপ্ন গুড়িয়ে কোয়ার্টারে ইংল্যান্ড

মস্কোর স্পাতার্ক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় শুরু হয় খেলা। প্রথমার্ধে কোনো দল গোল করতে পারেনি। ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়ার পর উত্তেজনা ফিরে। ইনজুরির কারণে কলম্বিয়াকে খেলতে নামতে হয়েছিল দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হামেস রদ্রিগেজকে ছাড়াই। যিনি গ্যালারিতে থেকে দলকে উৎসাহ জুগিয়ে গেলেন। তবে ম্যাচে একজন রদ্রিগেজের অভাব ঠিকই অনুধাবন করে গেল কলম্বিয়া।

রাশিয়া বিশ্বকাপ পেয়ে গেল কোয়ার্টার ফাইনালের আট দলকেই। ফ্রান্স, উরুগুয়ে, রাশিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ব্রাজিল, বেলজিয়াম ও সুইডেনের সঙ্গে যোগ দিল ইংল্যান্ড। শনিবার শেষ আটে ইংল্যান্ড খেলবে সুইডেনের বিপক্ষে। শুক্রবার থেকে শুরু হবে কোয়ার্টারের লড়াই।

এই জয়ে এক যুগের না পারার গ্লানির অবসান হলো ইংলিশদের। ২০০৬ সালে সর্বশেষ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল ইংলিশরা। তবে টাইব্রেকারে জিতে একটা ইতিহাসও লিখে ফেলল থ্রি লায়ন্সরা। এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে টাইব্রেকারে জিতল দলটি। আর সেখানে নায়ক গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। কলম্বিয়ার মাতিয়ুস উরিবের নেওয়া চতুর্থ পেনাল্টি কিকটি অবশ্য বারে লেগেই ফিরে। তবে পঞ্চম কিকটি রুখে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডেভিড সিম্যান পেনাল্টি রুখে ছিলেন। এরপর পিকফোর্ডই প্রথম কোনো ইংলিশ গোলরক্ষক যিনি বড় কোনো টুর্নামেন্টে পেনাল্টি রুখে দেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেন।

অথচ পেনাল্টিতে নায়ক হতে পারতেন কলম্বিয়া গোলরক্ষক ডেভিড ওসপিনা। দুই দলই যখন নিজেদের প্রথম দুই শট থেকে গোল আদায় করে নিয়েছে, এবং তৃতীয় শটেও গোল পেয়েছে কলম্বিয়া; তখন ইংল্যান্ডের জর্দান হেন্ডারসনের নেওয়া শট রুখে দেন ডেভিড ওসপিনা। ৩টি করে শট শেষে তখন কলম্বিয়া তাই ৩-২ এগিয়ে। কিন্তু নায়ক কে হবেন তার রহস্য তো লুকিয়ে রাখেন ফুটবল বিধাতা। কলম্বিয়ার হয়ে চতুর্থ পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারলেন না মাতিয়ুস উরিবে। তার গতিময় শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরল। ইংল্যান্ড চতুর্থ পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে ফিরল। এরপরের দৃশ্য ম্যাচের আসল নায়কের আবির্ভাব। যিনি নির্ধারণ করে দিলেন ম্যাচে।

কলম্বিয়ার পক্ষে টাইব্রেকারের পঞ্চম পেনাল্টিটি নিলেন কার্লোস বাক্কা। সেটি রুখে দিলেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। পরে ইংল্যান্ডের পক্ষে পঞ্চম পেনাল্টি শটে গোল করতে ভুল করলেন না এরিক ডায়ার। ইংলিশদের এনে দিলেন আনন্দে মাতার উপলক্ষ্য। তবে আসল নায়ক অবশ্যই জর্ডান পিকফোর্ড।

এর আগে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়াল নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটের নাটকীয়তায়। ৯০ মিনিট শেষে তখন ইনজুরি টাইমে গড়িয়েছে খেলা। ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা ইংল্যান্ড প্রহর গুনছে জয়োৎসবের। কিন্তু সেই সময়ে ইংল্যান্ডের জালে বল ঠুকে দেন ইয়েরি মিনা। বিশ্বকাপে ৯০ মিনিটে গড়ানো ম্যাচে হেড থেকে ৯৯তম গোলটি করলেন তিনি। এই বিশ্বকাপে যা তার তৃতীয় গোল। তিনটিই করলেন তিনি হেড থেকে। ২০০২ সালের পর এমন ঘটনা প্রথম দেখল বিশ্ব। আর ওদিকে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ইতিহাসেই প্রথম দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে গোল হজম করল।

তার আগে হ্যারি কেইনের গোলে এগিয়ে যাওয়া ইংলিশদের। ৫৪ মিনিটে ডি বক্সের ভিতরে কেইনকে ফাউল করেন কার্লোস সানচেজ। কেইনকে পাহারা দিচ্ছিলেন। তাকে আটকে রাখতে গিয়েই একটু মারমুখিও হলেন। হলুদ কার্ড দেখতে হয় তাকে। তাতে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি কেইন। বিশ্বকাপে যা তার ষষ্ঠ গোল। ৩ ম্যাচে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার তিনি। যে ৬ গোলের ৩টিই কেইন পেলেন পেনাল্টি থেকে।

কেইনের ওই গোলের পরই ম্যাচে উত্তেজনা উপড়ে পড়ছিল। কেইনের পক্ষে ফাউলের বাঁশি বাজানো কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না কলম্বিয়া। যার রেশ পড়লে পরের সময়ে। পুরো ম্যাচ রেফারিকে পকেট থেকে ৮ বার হলুদ কার্ড বের করতে হয়েছ। যার ৬টিই দেখেছে কলম্বিয়ার খেলোয়াড়রা। অথচ প্রথমার্ধে মাত্র একবার হলুদ কার্ড বের করতে হতো তাকে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য দারুণ সব আক্রমণ তৈরি করে ইংল্যান্ড। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের ১৫ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ থেকে হ্যারি কেইন প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন। কেইরান ট্রিপার দারুণ এক ক্রস করলেন। যাতে কেইন হেড করলেন ঠিকই, কিন্তু সেটি চলে যায় বার পোস্টের উপর দিয়ে। তার আগের মিনিট দুইও ট্রিপার ও কেইনে কম্বিনেশন দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করে।

খেলার মীমাংশা হয়ে যেতে পারত অতিরিক্ত সময়েও। ১১৫ মিনিটে জেমি ভার্ডি অফ সাইডের ফাঁদ ভাঙে বল নিয়ন্ত্রণে নিলেও বল মারলেন একেবারে গোলরক্ষক বরাবর। অথচ অনেকটাই ওয়ান টু ওয়ান হয়ে যাওয়া পজিশন থেকে গোলটা নিয়ে যে কোনো ফরোয়ার্ডের আক্ষেপ হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে ফেরায় সেই আপেক্ষ হয়তো থাকবে না। বরং ভাবনা এখন তাদের সুইডেনকে রুখে সেমি ফাইনালের টিকিট কাটা। কেইন যেভাবে গোলের ধারা ধরে রেখেছেন তাতে সে সম্ভাবনা তাদের প্রবলই।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে