ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩১

এক অর্ধকে ‘মৃত্যুকূপ’ বানিয়ে দিল টালমাটাল গ্রুপপর্ব

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০১৮ জুন ২৯ ১৭:৪৮:২৯
এক অর্ধকে ‘মৃত্যুকূপ’ বানিয়ে দিল টালমাটাল গ্রুপপর্ব

নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মেক্সিকো-ধাক্কা খেয়ে শঙ্কার নদীতে ডুবে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন জার্মানি আর তীরে উঠতেই পারেনি। শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়া নামের পুঁচকে দলের কাছে হেরে মহাপ্রতাপশালী জার্মানিকে গ্রুপপর্ব থেকেই বাড়ির পথ ধরতে হয়েছে। বাদ পড়ার কাঁপন জ্বরে পুড়েছে অন্য তিন ফেভারিট ফেভারিট ব্রাজিল, স্পেন এবং আর্জেন্টিনাও।

তবে এই তিন ফেভারিটের মধ্যে জ্বরের মাত্রা সবচেয়ে বেশি উঠেছিল আর্জেন্টিনার গায়ে। প্রথম ম্যাচে আইসল্যান্ড নামের নবাগত দলের সঙ্গে ড্র এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলের লজ্জার হার বিশ্বসেরা লিওনেল মেসির দলকে ঠেলে দিয়েছিল অনিশ্চয়তার কানাগলিতে। যে গলি থেকে বের হওয়ার জন্য নাইজেরিয়ার সঙ্গে জয়ের পাশাপাশি তাকিয়ে থাকতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়া-আইসল্যান্ড ম্যাচের দিকেও। মানে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার ক্ষমতা শুধু তাদের হাতেই ছিল না, ক্রোয়েশিয়ার প্রত্যক্ষ সাহার্যেরও বড় প্রয়োজন ছিল।

ভাগ্যদেবতার আশির্বাদে ক্রোয়েশিয়ার সেই পরোক্ষ সাহার্য নিয়েই শেষ ষোলতে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার মতো উচ্চমাত্রার না হলেও গ্রুপপর্ব জ্বরে কাঁপিয়েছে ব্রাজিল এবং স্পেনকেও। মৃদুভাবে হলেও জ্বরের ঝাপ্টা গেছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের উপর দিয়েও।

তো টালমাটাল গ্রুপপর্ব ঘটিয়ে ফেলেছে এক মহাকাণ্ড। ফাইনালের উঠার দুই রাস্তার একটিকে বানিয়েছে সাক্ষাৎ মৃত্যুকূপ। অন্য রাস্তাটিকে করে দিয়েছে পানির মতো সহজ। মানে শেষ ষোলতে উঠা ১৬ দলের বিভাজন প্রক্রিয়ায় সব শিরোপা-প্রত্যাশী দলগুলোই পড়েছে এক অর্ধে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, উরুগুয়ে-এই ৬ দলই পড়েছে এক অর্ধে। এদের সঙ্গে এই অর্ধে আছে জার্মানিকে হারিয়ে চমক জাগানো মেক্সিকো এবং এশিয়ার পরাশক্তি জাপানও।

তুলনামূলকভাবে ফাইনালে উঠার অন্য অর্ধটা একদমই সহজ, পানির মতো। এই অর্ধে টপ ফেভারিটদের মধ্যে আছে একমাত্র স্পেন। এছাড়া আছে সম্ভাবনাময় ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ড। এই অর্ধে বাকি যে ৫ দল, সেই স্বাগতিক রাশিয়া, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া এবং সুইডেন-এই দলগুলো হয়তো নিজেরাও এখনো শিরোপা স্বপ্ন দেখার সাহস পাচ্ছে না!

এই অর্ধ থেকে ফাইনালে উঠার পথটা তাই খুবই সহজ। আসলে জার্মানির বিদায় এবং আর্জেন্টিনার গ্রুপ রানার্সআপ হওয়াই এই অর্ধটাকে এমন পানির মতো সহজ করে দিয়েছে। বিশ্বকাপের ড্র অনুযায়ী আর্জেন্টিনা জার্মানি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হলে, দুই দলই পড়ত এই অর্ধে। কিন্তু গ্রুপপর্বের খড়্গে পড়ে জার্মানি তো দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতেই পারেনি। ১১০ ডিগ্রি মাত্রার জ্বর শেষে আর্জেন্টিনা হয়েছে ডি গ্রুপে রানার্সআপ। ফলে দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পড়তে হয়েছে মৃত্যু-অর্ধে।

গ্রুপপর্বের পারফরম্যান্স অবশ্য বলছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে আসা সব দলই দুর্দান্ত। শক্তি-সামর্থে কেউ কারো চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নয়। তারপরও একটা কথা থাকেই। ফুটবল ঐতিহ্য, ইতিহাস, অভিজ্ঞতার বিচারে কয়েকটি দলকে উপরে রাখতেই হবে। সেই দলগুলোর প্রায় সবগুলোই পড়েছে এক অর্ধে।

সেই দিক থেকে স্পেন মহাভাগ্যবান। কঠিন-মাত্রার জ্বর পাড়ি দিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে আসা স্পেনের নকআউটপর্বে সম্ভাব্য কঠিন পরীক্ষা বলতে গেলে ক্রোয়েশিয়া আর ইংল্যান্ড। অন্যদিকে মৃত্যু-অর্ধে পড়া আর্জেন্টিনার কথাই ধরুন। ফাইনালে উঠতে হলে তাদের পেরোতে হবে কঠিন পথ। দ্বিতীয় রাউন্ডেই তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সের। যে দলটি তারকায় ঠাসা। ফ্রান্স-পরীক্ষায় পাস করলে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমিুখি হতে হবে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল বা লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানিদের উরুগুয়ের। সেই পরীক্ষাতেও পাস করলে সেমিফাইনালে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ব্রাজিল।

একই রকমভাবে এই অর্ধে থাকা ব্রাজিল, ফ্রান্স, উরুগুয়ে, পর্তুগাল, বেলজিয়াম-ফাইনালে উঠতে হলে সবাইকেই নামতে হবে একের পর এক কঠিন পরীক্ষায়।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে