ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

অতিরিক্ত গরম: জেনেনিন হিটস্ট্রোকের লক্ষণ ও সতর্কতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৫ এপ্রিল ০৫ ১৭:৩৯:১৫
অতিরিক্ত গরম: জেনেনিন হিটস্ট্রোকের লক্ষণ ও সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গরমের মৌসুমে শারীরিক সমস্যা বাড়ে, এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং বিপজ্জনক সমস্যা হলো হিটস্ট্রোক। বিশেষ করে যখন তাপমাত্রা খুব বেড়ে যায় এবং শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তখন এই বিপদ ঘটে। সাধারণত, শরীরের তাপমাত্রা যখন ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা তার বেশি হয়, তখন তাকে হিটস্ট্রোক বলা হয়।

শরীর সাধারণত তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘাম এবং রক্তনালি প্রসারিত করে। কিন্তু যখন তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায় এবং আর্দ্রতা থাকে, তখন শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় গরমে থাকার ফলে শরীর তাপ শোষণ করতে পারে না, এবং এর ফলে হিটস্ট্রোকের ঘটনা ঘটে। এই সমস্যাটি প্রধানত বয়স্কদের এবং শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তাদের শরীর তাপ নিয়ন্ত্রণে কম সক্ষম।

হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে থাকা মানুষ

প্রধানত বয়স্করা হিটস্ট্রোকের শিকার হন, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কমে যায়। অধিকাংশ বয়স্ক ব্যক্তি নানা ধরনের রোগে ভোগেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, যা শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে। এছাড়া, যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন যেমন কৃষক, শ্রমিক, রিকশাচালক, তাদেরও হিটস্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

শিশুরা, যারা গরমে বেশি সময় বাইরে খেলা বা চলাফেরা করে, তাদেরও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। পানি কম খেলে শরীরে পানির অভাব হয়ে যায়, যা হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়ায়।

হিটস্ট্রোকের লক্ষণসমূহ

হিটস্ট্রোকের আগে সাধারণত হিট ক্র্যাম্প বা হিট এক্সহসেশন দেখা দেয়। এসব ক্ষেত্রে শরীরে অবস্থা খারাপ হতে থাকে, এবং তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। হিটস্ট্রোকের মূল লক্ষণসমূহ হলো:

১. শরীরের তাপমাত্রা ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায় এবং ঘাম বন্ধ হয়ে যায়। ২. ত্বক শুকনো ও লালচে হয়ে যায়, শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হয় এবং বুক ধড়ফড় করে। ৩. খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্ন কথাবার্তা হতে পারে।

হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়

অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে:

১. হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। সাদা বা হালকা রঙের কাপড় পরলে ভালো হয়। ২. ঘরের ভিতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকুন, বাইরে খুব প্রয়োজন না হলে বের হবেন না। ৩. বাইরে গেলে চওড়া কিনারাযুক্ত টুপি, ক্যাপ বা ছাতা ব্যবহার করুন। ৪. বাইরে কাজ করার সময় ছায়ায় বিশ্রাম নিন এবং মাথা ঢাকার জন্য কাপড় ব্যবহার করুন। ৫. প্রচুর পানি ও লবণযুক্ত তরল পান করুন। পানি বা স্যালাইন পান করা উপকারী। ৬. অসুস্থ বা ওষুধ সেবনকারীদের গরমে বাইরে না যাওয়াই ভালো। ৭. হার্টের রোগী বা ডিহাইড্রেশন হলে গরমে বাইরে যাওয়ার আগে সাবধানতা অবলম্বন করুন।

এগুলো অনুসরণ করলে অতিরিক্ত গরমের মধ্যে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

মোঃ রিফাত/

স্বাস্থ্য - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ