ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

রাজনীতি ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৫ এপ্রিল ০৫ ১২:১৫:০৪
মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেহেরপুর জেলার রাজনীতি এবার নতুন মোড় নিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, যিনি একসময় গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাংনী শহরের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ, যার মধ্যে অন্যতম সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের চেষ্টা। গাংনী থানার পুলিশ জানিয়েছে, এম এ খালেক এবং তার সহকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে মেহেরপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত করার পাঁয়তারা করছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, এবং স্থানীয়রা এখন প্রশ্ন তুলছেন—এটা কি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল, না কি এর পিছনে কোনো বৃহত্তর চক্রান্ত রয়েছে?

শুক্রবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাংনী শহরের থানা সড়কের বাসা থেকে গাংনী থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয়দের মতে, এম এ খালেক ছিলেন গাংনী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, যাকে গত ৫ আগস্টের পর চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় ক্রমাগত বেড়ে চলেছিল।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এম এ খালেক এবং তার সমর্থকরা মেহেরপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের একত্রিত করে অন্তর্বর্তী সরকারবিরোধী প্রচারের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারবিরোধী জনমত সৃষ্টি করা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা।

এম এ খালেকের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, এবং সেই মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর র‍্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল, কিন্তু পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি আবারো এলাকায় ফিরে আসেন। তার ফিরে আসার পরেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশাসন তৎপর ছিল।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানি ইসরাইল জানিয়েছেন, "এম এ খালেক এবং তার সমর্থকরা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও গুজব ছড়িয়ে এলাকাতে ত্রাস সৃষ্টি করার চেষ্টা করছিলেন। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সরকারবিরোধী জনমত তৈরির চেষ্টা করছিলেন।"

এম এ খালেকের গ্রেপ্তার মেহেরপুরে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক রয়েছে।

মো: রাজিব আলী/

রাজনীতি - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ