ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

শাওয়াল মাসের ছয় রোজা: এক বছরের সওয়াবের সোপান

২০২৫ এপ্রিল ০৪ ১৫:৩০:১৬
শাওয়াল মাসের ছয় রোজা: এক বছরের সওয়াবের সোপান

নিজস্ব প্রতিবেদক: শাওয়াল মাস—আনন্দ আর ইবাদতের অপূর্ব সমন্বয়। ঈদুল ফিতরের খুশি যেমন এই মাসকে আলোকিত করে, তেমনি শাওয়ালের ছয় রোজা এনে দেয় বরকতময় এক বছরের সওয়াব। এই নফল রোজাগুলো আমাদের ঈমানকে মজবুত করে এবং রমজানের রুহানি আবহকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।

শাওয়াল: নেক আমলের মাস

শাওয়াল মাস শুধু ঈদের উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। এটি হজের তিন মাসের (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) প্রথম মাস এবং ইসলামের ইতিহাসে এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিক ওহুদ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল এই মাসের ৭ তারিখে, যা ইসলামের বিজয়ের এক গৌরবময় স্মৃতি।

শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত

প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পুরো বছরই রোজা রাখল।” (মুসলিম: ১১৬৪, আবু দাউদ: ২৪৩৩)।

আল্লাহ তাআলা প্রতিটি সৎকর্মের জন্য কমপক্ষে ১০ গুণ প্রতিদান দেন। (সূরা আনআম, আয়াত: ১৬০) সেই হিসেবে রমজানের ৩০ দিনের রোজা ৩০০ দিনের সমতুল্য হয় এবং শাওয়ালের ছয়টি রোজা সেই সওয়াবকে ৩৬০ দিনে পৌঁছে দেয়, যা একটি পূর্ণ বছরের সমতুল্য।

কিভাবে পালন করবেন শাওয়ালের ছয় রোজা?

এই রোজাগুলো ধারাবাহিকভাবে বা বিরতি দিয়ে রাখা যায়। এটি ঈদের পরপরই শুরু করা যেতে পারে অথবা মাসের যেকোনো সময়ে পালন করা যেতে পারে। তবে, রমজানের ফরজ রোজার মতো এগুলোর নিয়ত সাহ্‌রির মধ্যে করতে হয়। কেউ যদি আগের রাতে দৃঢ় সংকল্প করে রাখেন, তাহলেও রোজা হয়ে যাবে। (ফাতাওয়া শামী)

রমজানের কাজা ও শাওয়ালের ছয় রোজা

যদি কারও রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকে, তবে তা আদায়ের পরেই শাওয়ালের ছয় রোজা পালন করা উত্তম। তবে কেউ চাইলে আগে শাওয়ালের রোজা রাখতে পারেন, কারণ কাজা রোজা পরবর্তী সময়ে আদায় করার সুযোগ থাকে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “আমার ওপর রমজানের যে কাজা রোজা বাকি থাকত, তা আমি পরবর্তী শাবান ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।” (বুখারি: ১৯৫০; মুসলিম: ১১৪৬)।

শাওয়াল মাস ও বিবাহের সুন্নত

শাওয়াল মাস বিয়ের জন্য বিশেষভাবে সুন্নত হিসেবে গণ্য হয়। প্রিয়নবী (সা.)-এর স্ত্রী হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে এই মাসের এক শুক্রবারে মসজিদে নববিতে সম্পন্ন হয়েছিল। (মুসলিম) তাই অনেক মুসলিম এই মাসকে বিয়ের জন্য শুভ মনে করেন।

শাওয়ালের ছয়টি রোজা শুধু নেক আমল নয়, এটি এক বরকতময় অভ্যাস যা আমাদের আল্লাহর নৈকট্যে নিয়ে যায় এবং ঈমানকে দৃঢ় করে। এই রোজা পালন করে আমরা এক বছরের রোজার সওয়াব লাভ করতে পারি। আসুন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের আমলনামা সমৃদ্ধ করি।

মো: রাজিব আলী/

ধর্ম - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ