ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

প্রধান উপদেষ্টা: নির্বাচন আয়োজন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৫ এপ্রিল ০৪ ১০:৫৮:৫২
প্রধান উপদেষ্টা: নির্বাচন আয়োজন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শুক্রবার (৪ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন, যেখানে তিনি জানিয়ে দেন যে, দেশের জাতীয় নির্বাচন আয়োজন এখন সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব, সুষ্ঠু, অবাধ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব। এর জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার পর, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।”

এ সময় অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়গুলো তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ, নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবকরা এক নৃশংস সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসের গণহত্যায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। তাদের ত্যাগ ছিল দেশের স্বাধীনতার পাথেয়।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের জনগণ একটি ন্যায়বিচারপূর্ণ, স্বাধীন এবং সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিল, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু, গত পনেরো বছরে, বিশেষ করে যুবসমাজ, তাদের অধিকার এবং স্বাধীনতা সংকুচিত হতে দেখেছে। তারা রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয় এবং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে।”

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণ যখন লড়াই করছিল, তখন প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ১১৮ জন ছিল শিশু। তবে, এই গণজাগরণ বাংলাদেশকে একটি নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে সক্ষম করেছে।“

এ সময় তিনি জানান, “যে ছাত্রনেতারা গণজাগরণে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে। জনগণের স্বার্থে আমি সেই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছি।”

অধ্যাপক ইউনূস সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে সংস্কার গ্রহণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সুশাসন, দুর্নীতি দমন এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা আমাদের মূল লক্ষ্য।”

তিনি জানান, ইতিমধ্যে সরকার বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশন ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে এবং বর্তমানে সরকার সেগুলো পর্যালোচনা করছে।

এছাড়া, সরকার একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করেছে, যার নেতৃত্ব তিনি নিজে দিচ্ছেন, এবং এই কমিশন ছয়টি কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করবে।

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, “সরকার সম্প্রতি আরো চারটি কমিশন গঠন করেছে, যেগুলো গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম এবং নারী অধিকার সংক্রান্ত নীতিগত সুপারিশ তৈরি করবে।” তিনি বলেন, “আমরা দেশ পুনর্গঠন করছি, তবে তার সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রতি আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা রয়েছে।”

সম্মেলনে থাই প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা, বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মনি পান্ডে এবং বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: রাজিব আলী/

জাতীয় - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ