ঢাকা, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩১

MD. Razib Ali

Senior Reporter

তামিম-আয়েশা লাভস্টোরি যেন সিনেমা

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৫ মার্চ ২৯ ১৭:৫৬:০১
তামিম-আয়েশা লাভস্টোরি যেন সিনেমা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা তামিম ইকবাল এবং তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকীর সম্পর্ক যেন একটি রোমান্টিক সিনেমার গল্প। এটি শুধু ভালোবাসা ও রোমান্সের কাহিনী নয়, বরং জীবনের চ্যালেঞ্জ, সামাজিক দায়িত্ব এবং মাতৃত্বের বিষয়ও তুলে ধরে। এই সম্পর্কটি শুরু হয়েছিল প্রায় ১৫ বছর আগে, যখন আয়েশা সিদ্দিকী তার বন্ধুর মাধ্যমে তামিমের সঙ্গে পরিচিত হন।

প্রথম পরিচয় এবং সম্পর্কের যাত্রা

তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ১৫ বছর বয়সে তামিম ইকবাল প্রথম আয়েশাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যদিও বয়সের পার্থক্য এবং পরিবারের উদ্বেগ ছিল আয়েশার চিন্তার কারণ, তবুও তামিমের প্রতি তার অনুভূতি ছিল খুবই বিশেষ। প্রথম দিকে, আয়েশা ভেবেছিলেন, তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই তামিমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে তামিমের অটুট ভালোবাসা এবং তার দৃঢ় সংকল্পের কারণে আয়েশা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। তারা একে অপরকে ভালোবাসার পথে হাঁটতে শুরু করেন, এবং সেই পথ তাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিকে নিয়ে যায়।

তাদের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘ দূরত্বের, কারণ আয়েশা তখন মালয়েশিয়াতে পড়াশোনা করছিলেন এবং তামিম ব্যস্ত ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে। যদিও আয়েশা ক্রিকেটের প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন না, তামিমের প্রতি তার ভালোবাসা ক্রমে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। প্রায় আট বছরের সম্পর্কের পর, ২০১৩ সালের জুন মাসে চট্টগ্রামে এক জমকালো অনুষ্ঠানে তামিম ও আয়েশা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

বিয়ের পর জীবন এবং পারিবারিক সুখ

তামিম ও আয়েশার দাম্পত্য জীবনে একটি পুত্র এবং একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আয়েশা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন এবং তার সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায় এক লাখ ফলোয়ার রয়েছে। তিনি মাতৃত্ব, সন্তান এবং মায়ের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাসভা ও বিজ্ঞাপনে অংশ নেন, যা তার সামাজিক দায়িত্ব এবং ব্যক্তিত্বের দৃষ্টান্ত।

বিয়ের পর তামিম বলেন, "আমি সত্যিই ভাগ্যবান, আয়েশার মতো একজন স্ত্রীর পাশে থাকতে পারছি। আয়েশা শুধু আমাকে ভালোবেসেছে, বরং ক্রিকেটের প্রতি তার আগ্রহও তৈরি হয়েছে।"

তামিমের হৃদরোগের ঘটনায় আয়েশার ভূমিকা

সম্প্রতি, বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল হৃদরোগে আক্রান্ত হন, যা সকলকে চমকে দেয়। মাঠে খেলার সময় তিনি আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, এই কঠিন সময়ে আয়েশা তার পাশে ছিলেন একজন দৃঢ় সমর্থক এবং সঙ্গী হিসেবে।

তামিমের হার্ট অ্যাটাকের খবর শুনে প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল উদ্বেগ এবং ভয়। তবে, আয়েশার শান্ত ও সুশৃঙ্খল সহায়তা এবং তার ভালোবাসা প্রমাণ করেছে যে, ভালোবাসা এবং বিশ্বাস কোনো সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। আয়েশা তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগপ্রবণ পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে তিনি লেখেন, "তুমি আমার জীবনের অমূল্য রত্ন, তোমার সুস্থতা ও সুস্থ মনই আমাদের পরিবারকে শক্তিশালী করে তোলে। আমি তোমার পাশে আছি, চিরকাল।"

সম্পর্কের শক্তি এবং আয়েশার সামাজিক ভূমিকা

এই কঠিন সময়ে, আয়েশার ধৈর্য এবং প্রগাঢ় ভালোবাসা তার জন্য প্রশংসার দাবিদার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার সমর্থন, উদ্বেগ এবং প্রার্থনার বার্তা তাকে শক্তিশালী সঙ্গী হিসেবে তুলে ধরেছে। তামিম বর্তমানে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে।

আয়েশা তার সামাজিক কাজকর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি একজন শক্তিশালী এবং সহানুভূতিশীল ব্যক্তিত্ব। তার মাতৃত্ব, সামাজিক দায়িত্ব এবং সমর্থন তাকে প্রশংসিত করেছে।

তামিম এবং আয়েশার সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত জীবনের একটি সুন্দর গল্প নয়, এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং বিশ্বাসের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাদের সম্পর্ক আমাদের শেখায় যে, ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা ছাড়া কোনো সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এটি শুধু তাদের জীবনের একটি গল্প নয়, বরং সকল সম্পর্কের মধ্যে একে অপরের পাশে থাকার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

মো: রাজিব আলী/

খেলা - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ