ঢাকা, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩১

কারাবন্দি নেতার লড়াই বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ইমরান খান

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৫ মার্চ ২৯ ১৬:৫৭:৫৮
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ইমরান খান

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান কারাবন্দি রাজনৈতিক নেতা ইমরান খান আবারও বিশ্বমঞ্চে আলোচনার শীর্ষে। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অব্যাহত সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ, তাকে ২০২৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এই মনোনয়ন শুধু পাকিস্তান নয়, সারা বিশ্বের রাজনীতি ও মানবাধিকার ইস্যুগুলোতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়ন ঘোষণা

শনিবার (২৯ মার্চ) পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স (পিডব্লিউএ)-এর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা আনাদুলো এজেন্সি। পিডব্লিউএ, যা নরওয়ের রাজনৈতিক দল পার্টিয়েট সেন্ট্রামের অংশ, এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, মনোনীত করার অধিকারী এমন একজনের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আমরা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে তার কাজের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছি।’

ইমরান খানের নোবেল মনোনয়নের পটভূমি

ইমরান খান এর আগেও নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। ২০১৯ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার জন্য তার নাম বিবেচিত হয়েছিল। এবার দ্বিতীয়বারের মতো তিনি এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির জন্য লড়াই করছেন।

প্রতি বছর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি শত শত মনোনয়ন পেয়ে দীর্ঘ আট মাসব্যাপী পর্যালোচনার মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করে। কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচন করা হয়, যেখানে বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইমরান খানের সংগ্রামের গল্প: কারাগার থেকে বিশ্বমঞ্চে

ইমরান খান শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, একজন সমাজ সংস্কারক এবং পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের একজন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে দাবি করেছেন। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সংক্রান্ত একটি মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নোবেল মনোনয়নের প্রভাব: সমর্থক ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

ইমরান খানের নোবেল মনোনয়ন বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার সমর্থকরা এটিকে ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, যেখানে সমালোচকরা এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার এই মনোনয়ন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য তার লড়াইকে আরও বেশি স্বীকৃতি দেবে।

নোবেল জয় কি সম্ভব?

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া মানেই যে তিনি বিজয়ী হবেন, তা নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের মধ্য থেকেই বিজয়ী নির্ধারিত হবে। তবে একবার নয়, দুইবার মনোনীত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিশ্বরাজনীতিতে ইমরান খানের অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, কঠোর পর্যালোচনার পর তিনি কি সত্যিই এই সম্মান অর্জন করতে পারেন?

ইমরান খানের নোবেল মনোনয়ন পাকিস্তানসহ বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে তার অবস্থান তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতির জন্য মনোনীত করেছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে জানা যাবে, তিনি কি সত্যিই নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করতে সক্ষম হবেন কি না।

ফারুক/

বিশ্ব - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ