ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১

সেনাপ্রধানের বক্তব্যে ভারতীয় গণমাধ্যমে উত্তেজনা, পাকিস্তানে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

জাতীয় ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৫ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২৩:০৪:০২
সেনাপ্রধানের বক্তব্যে ভারতীয় গণমাধ্যমে উত্তেজনা, পাকিস্তানে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা যেন এক নতুন মোড়ে প্রবাহিত হয়েছে, যখন দেশের সেনাপ্রধান, জেনারেল ওয়াকারুজ্জামান, জনগণের উদ্দেশ্যে একটি গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার জন্য দেশবাসীকে তিনি সতর্ক করেন। সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য, যা সোমবার অনুষ্ঠিত জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে পিলখানায় দেওয়া হয়, তা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলিতেও ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।

জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে এক অনন্য বার্তা

মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে আয়োজিত সেই বিশেষ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে দেশের চলমান অস্থিরতার পেছনে অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের দিকে আঙ্গুল তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘এমন সময় বাংলাদেশে অপরাধীরা সুযোগ নিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে।’’ তবে তার বক্তব্যের মূল মন্ত্র ছিল একতা ও শান্তির কথা। সেনাপ্রধান সকল রাজনৈতিক পক্ষকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারলে আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।’’ তার এই দৃঢ় ও স্পষ্ট বার্তা যেন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি দিশারি হয়ে উঠেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে উত্তেজনা, পাকিস্তানে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

সেনাপ্রধানের এই বক্তব্য ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে। দা হিন্দু, টাইমস অফ ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস—এগুলি প্রকাশ করেছে, সেনাপ্রধানের বক্তব্যে উঠে এসেছে নির্বাচন এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কথা। যদিও ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলি সাধারণত সেনাপ্রধানের মন্তব্যকে উত্তেজনা তৈরির দিকে নিয়ে গেছে, পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক ভিন্নভাবে তা তুলে ধরেছে। পাকিস্তানের ডন এবং এক্সপ্রেস ট্রিবিউন তাদের প্রতিবেদনে সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে সরকারের আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করেছে, এবং একতা বজায় রাখার গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছে।

একতার আহ্বান: সংকট মোকাবিলার একমাত্র উপায়

বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের বক্তব্যের প্রধান বার্তা ছিল একত্রিত হওয়া। তিনি বলেন, ‘‘দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করতে হবে, এবং আমাদের মধ্যে বিভেদ কমাতে হবে।’’ একসাথে থাকলেই যে সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সেটি তার বক্তব্যের মূল সুর। এই আহ্বান দেশবাসীর মধ্যে এক নতুন চেতনা সৃষ্টি করতে পারে, যদি সবাই মিলে দেশকে অস্থিতিশীলতার হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

দেশের ভবিষ্যত নিয়ে দৃঢ় অবস্থান

সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে আরও বলেছেন, ‘‘আমার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা হলো দেশ এবং জাতিকে একটি সুন্দর অবস্থানে রেখে সেনানিবাসে ফিরে যাওয়া।’’ বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে তার দৃঢ় অবস্থান সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেনাপ্রধান বুঝিয়ে দিয়েছেন, মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও দেশের মঙ্গলার্থে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে, যা একটি দেশপ্রেমিক চেতনার জন্ম দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ: বিশ্বও নজর রাখছে

এদিকে, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং চীন—এগুলো দেশ বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া প্রতিটি পরিবর্তনের দিকে কড়া নজর রাখছে। বিশেষ করে এসব দেশের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং সেনাপ্রধানের বক্তব্য নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক মহলও মনে করছে, বাংলাদেশে অস্থিরতা থামাতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ একতা ও শান্তি বজায় রাখা জরুরি।

সেনাপ্রধানের বক্তব্য শুধুমাত্র বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি সতর্কবাণী নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক বার্তাও যে, সংকটের এই সময়ে একত্রিত হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

রবিন/

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে