ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩১

বিশ্বকাপে সাফল্যের আসল রহস্য ফাঁস করলেন মুহাম্মদ শামি

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৩ নভেম্বর ১৬ ১৮:৩৭:৩৫
বিশ্বকাপে সাফল্যের আসল রহস্য ফাঁস করলেন মুহাম্মদ শামি

বিশ্বকাপের প্রথম কয়েকটি ম্যাচে একাদশে জায়গা পাননি মুহম্মদ শামি। এর আগে ভারতীয় ফাস্ট বোলার তার স্ত্রীকে নিয়ে খুব খারাপ সময় পার করেছেন, যার বিরুদ্ধেও হয়রানি ও বিবাহবিচ্ছেদের গুরুতর অভিযোগ! সম্ভবত এখান থেকেই মাঠের পারফরম্যান্সে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শামি। এরপর ৬ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৩টি উইকেট নেন তিনি। মুম্বাইয়ের ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটেও সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে তিনি একে একে ৭ উইকেট নিয়েছেন। কীভাবে এমন সাফল্যময় সময় ফিরিয়ে আনলেন, সেই রহস্য জানিয়েছেন শামি।

গতকাল (বুধবার) ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিশোধ নেওয়ার ম্যাচে শেষ পর্যন্ত জিতেছে ভারত। প্রথমে ব্যাট করে বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ারের সেঞ্চুরির সুবাদে রোহিত শর্মার দল ৩৯৭ রান করে। এক সময় কিউই দলের ব্যাটিংয়ের সময় মনে হচ্ছিল এই রান করা সম্ভব। সেখান থেকেই বাকি গল্প লেখা শুরু করেন শামি। তিনি একাই ৯.৫ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন। এটি বর্তমান বিশ্বকাপের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স, এমনকি বিশ্বকাপের পুরো ইতিহাসে নক-আউট ম্যাচে আর কেউ ৭ উইকেট নিতে পারেনি।

সেই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে তিনবার পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন এই ৩৩ বছর বয়সী ভারতীয় ফাস্ট বোলার। অন্য ইনিংসেও নিয়েছেন ৪ উইকেট। বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া বোলারদের তালিকায় আগেই নাম রেখেছিলেন শামি। জহির খান এবং জাগাল শ্রীনাথের সাথে ৪৪ উইকেট নিয়ে ভারতের শীর্ষ বোলারদের তালিকা ভাগ বসিয়েছেন। কিন্তু গতকালের ৭ উইকেট তাকে বিশ্বকাপে ৫০ উইকেটের সীমা ছাড়িয়েছে। এই কৃতিত্ব অর্জন করতে তার লেগেছিল মাত্র ১৭ বিশ্বকাপ ইনিংস।

ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৭০ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতার থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে। এমন সাফল্যের অন্যতম নায়ক শামি বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন। তবে বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচে সুযোগ পাননি তিনি। তবে শামির কণ্ঠে কোনো আক্ষেপ ছিল না। শামি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। একবার সুযোগ পেলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এরপরই আসে এমন চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের রহস্যের কথা, ‘সবাই ভেরিয়েশনের কথা বলে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাউন্সার, ইয়র্কার ও স্লোয়ারসহ বেশ বৈচিত্র্যের দরকার বলে মনে করে অনেকে। তবে আমি এখনও বিশ্বাস করি যে, সঠিক জায়গায় বল রাখাটাই উইকেট নেওয়ার মূল মন্ত্র। বিশেষ করে নতুন বলে ওপরের দিকে বল রেখে উইকেট তোলার দিকে আমার নজর থাকে। সেভাবেই সাফল্য এসেছে।’

বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপেও শামি একাদশে জায়গা পাননি নিয়মিত। তেমনি আইসিসির মেগা আসরটিতে তার সুযোগ মেলে নাটকীয়ভাবে। চোটের কারণে হার্দিক পান্ডিয়া ছিটকে যাওয়া ও শার্দূল ঠাকুরের বাজে পারফরম্যান্স তার দরজা খুলে দেয়। এ নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর বলেছেন, ‘শামি বিশেষ বোলার এবং সে আসলেই দুর্দান্ত বোলিং করেছে। টিম কম্বিনেশনের জন্য তাকে একাদশে আনাটাও আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু মাঠের বাইরে থাকাবস্থাতেও মহৎ মনের পরিচয় দিয়েছে।’

শামির শৈশবের কোচ মোহাম্মদ বদরুদ্দিনও কথা বলেছেন শিষ্যের সাফল্য নিয়ে। কিভাবে ভারতীয় পেসার নিজের দক্ষতা অর্জন করেছেন তা নিয়ে তার গুরু বলেন, ‘তার (শামি) মাঝে সহজাত কিছু প্রতিভা আগে থেকেই আছে, বাকিটা সে অনেক পরিশ্রমে আয়ত্ত করেছে। যা সাফল্যের মঞ্চে তুলে দিয়েছে তাকে। তার ডেলিভারি সবসময় অনেকটা ওপরে থাকে এবং বলও ছোড়া হয় পারফেক্ট অবস্থান থেকে। দারুণ গতির মিশেলে সে অধিকাংশ বলই একই স্লটে ছাড়ে। সে কারণে কোন বলটি ভেতরে আসবে আর কোনটা বাইরে বেরিয়ে যাবে সেটি ব্যাটসম্যানদের বোঝা অনেক কঠিন।’

শামির কোচ বদরুদ্দিন আরও বলেন, ‘আপনি তার যেকোনো উইকেটই দেখুন, তার প্রতিটি ডেলিভারি কিন্তু টলমলে সিম পজিশনে থাকে না। এমনকি বলও সে খুব কঠিনভাবে পিচে ফেলে না। গত রাতের কনওয়ের আউটটাই দেখুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন।’ হালকা সুইং মিশ্রিত বলটি শামি ছেড়েছিলেন ফুল লেংথে, বলটি খেলা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মাঝেই কিউই ওপেনার ডেভন কনওয়ে ব্যাট চালিয়ে বসেন। এরপর ব্যাটের আলতো ছোঁয়া লেগে দারুণ প্রচেষ্টায় গ্লাভসবন্দী করেন উইকেটরক্ষব লোকেশ রাহুল।

খেলা - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ