ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

শেষ ম্যাচে হেরেও অনেক কিছু পেল বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৩ নভেম্বর ১২ ১০:৫৭:৫২
শেষ ম্যাচে হেরেও অনেক কিছু পেল বাংলাদেশ

বিশ্বকাপে কখনো তিন ম্যাচের বেশি জিততে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাকিব আল হাসান। এবার আমারও স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করার।

কিন্তু ২০২৩ সালের বিশ্বকাপ বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে খারাপ প্রমাণিত হয়। এবার অধিনায়ক হওয়া সাকিব বিশ্বকাপের প্রায় বেশি অর্ধেকম্যাচই হেরেছেন।

গত চার বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জিতেছে তিনটি ম্যাচে। এবার তাকে থামতে হলো দুই জয়ে। হতাশার এই টুর্নামেন্টের শুভ সমাপ্তি হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩০০ রান করার পরও বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানকে পরাজিত করার পর, তারা শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে, নয়টি ম্যাচে দুটি জয় এনে দেয়।

ভারতের পুনেতে বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৮ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৭ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। সেই রানের জবাব দিতে আসা আজিরা ৩২ বল বাকি থাকতে ২ উইকেট হারিয়ে স্কোর পেরিয়ে যায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়া কখনোই এত রানে জিততে পারেনি। এই জয়ে লিগে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবে কামিন্সের দল।

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে আসা বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করেছিল, যার ফল টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ভুগতে হয়েছিল তাদের। এটি ছিল পুনেতে ভারতের বিপক্ষে ৯৭ রানের উদ্বোধনী জুটি, এরপর এই জুটি দ্বিতীয়বারের মতো পঞ্চাশ পেরিয়ে যায়। তবে হতাশ হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন দুই ওপেনারই। শুরুটা হয়েছিল তানজিদ হাসান তামিমকে দিয়ে।

চমৎকার কিছু শট খেলার পর ৩৪ বলে ৩৬ রান করে ড্রেসিংরুমে ফেরেন তিনি। অ্যাবোটের বাউন্সার বুঝতে না পেরে বোলার অ্যাবটের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। এক রানে জাম্পার বলে আউট হন লিটন দাস। লিটন ৪৫ বলে ৫ চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেন এবং জাম্পার বলের উপর জোর না দিয়ে লং অফে হিট করেন।লেবুসানে দ্বারা ধরা.

এরপর তৌহিদ হৃদয়ের সঙ্গে চমৎকার জুটি গড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের জুটির জোরে বড় স্কোরের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ হয় হতাশার মধ্যে। শান্ত এবং হৃদয় ২৮তম ওভারের পঞ্চম বলটি স্কয়ার লেগ অঞ্চলে বোল্ড করে রান শুরু করেছিলেন। দুজনেই অনেকক্ষণ রান করার তাড়ায় ছিলেন।

সেই বলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে আউট হন শান্ত। উইকেটরক্ষক জশ ইংলিশ তৎক্ষণাৎ স্কয়ার লেগে লাবুশ্যানের দুর্দান্ত থ্রো দিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন। ৫৭ বলে ৬ চারের সাহায্যে ৪৫ রান করে ফিরতে হয় শান্তকে।

এরপর হৃদয়ের জুটির সঙ্গী হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তাদের জুটিতে ৪৪ রান। এবারও সেই রান আউট দিয়েই শেষ হলো জুটি, এখানেও টিকে গেলেন লাবুসচেনা। হৃদয় বল পাঠান কভারের দিকে, তারপর দুজনেই রানের জন্য দৌড়াতে থাকেন। কিন্তু নন-স্ট্রাইক থেকে ছুটে আসা রিয়াদের আঘাতে লাবুসচেনে আন্ডারআর্ম থ্রো দিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন। ২৮ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৩২ রান করেন রিয়াদ। বিশ্বকাপের শেষ ইনিংসে রানআউট হওয়ার পর হতাশ হয়ে ড্রেসিংরুমের দিকে চলে যান তিনি।

মুশফিকুর রহিম ইনিংসটা খুব একটা টেনে নিতে পারেননি। তিনি ২৪ বলে ১ ছক্কায় ২১ রান করেন। হৃদয়ও ইনিংস শেষ করতে পারেননি। যে ব্যাটসম্যান প্রথমে বল হাতে বেশি রান করেছিলেন তিনি পরে স্ট্রাইক রেট ১০০-এর নিচে নামিয়ে আনেন। বিশ্বকাপে তার প্রথম হাফ সেঞ্চুরি শেষ হয় ৭৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭৪ রান করে। স্টোইনিসের বলে লাবুশেনের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার আগে কখনো রান তাড়ায় এমন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি। তবে শুরুতেই উইকেট পায় বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদ অফ স্টাম্পের ঠিক বাইরে একটি ব্যাক অফ লেংথ বল খেলেন এবং সেটি ট্রাভিস হেডের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত করে। ১১ বলে ১০ রান করে ফিরতে হয় হেডকে। মাত্র ১২ রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা।

এরপর মিচেল মার্শের সঙ্গে ১২০ রানের জুটি গড়েন ডেভিড ওয়ার্নার। হাফ সেঞ্চুরি করে ওয়ার্নারকে ফেরান মুস্তাফিজুর রহমান। ৬১ বলে ৫৩ রান করা ওয়ার্নার শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। কিন্তু সেটাই। তৃতীয় ওভারে মার্শকে আউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৩২ বলে ১৭ চার ও ৯ ছক্কায় ১৭৭ রান করে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার সঙ্গে স্টিভেন স্মিথ ৬৪ বলে ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩০৬/৮ (হৃদয় ৭৪ শান্ত ৪৫; জাম্পা ৩২/২, অ্যাবট ৬১/২)

অস্ট্রেলিয়া: ৪৪.৪ ওভারে ৩০৭/২ (মার্শ ১৭৭*, স্মিথ ৬৩*; তাসকিন ৬১/১)

খেলা - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ