ঢাকা, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

পাকিস্তানি বোলারদের তছনছ করে কিউইদের রানের পাহাড়

খেলা ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২৩ নভেম্বর ০৪ ১৬:২৯:৩৭
পাকিস্তানি বোলারদের তছনছ করে কিউইদের রানের পাহাড়

ম্যাচ হারলে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যাবে পাকিস্তানের। এমন সমীকরণ নিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নেন তিনি। এরপর শাহীন আফ্রিদি ও হারিস রউফকে চ্যালেঞ্জ জানান কিউই ব্যাটসম্যানরা। রচিন রবীন্দ্রের রেকর্ড-ব্রেকিং তৃতীয় সেঞ্চুরি এবং কেন উইলিয়ামসনের ৯৫ রানের সুবাদে কিউই দল নির্ধারিত ওভার শেষে ৬ উইকেটে ৪০১ রান করেছে। এটি চলমান বিশ্বকাপে যেকোনো দলের দ্বিতীয় ৪০০-র বেশি রান।

আজ (শনিবার) বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। দারুণ গতিতে বিশ্বকাপ শুরু করা নিউজিল্যান্ড মাঝপথে ছিটকে পড়ে। টানা তিন পরাজয় তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ কঠিন করে দিয়েছে। কিন্তু আজ ফর্মে থাকা কিউই ব্যাটসম্যানরা সেই রান সহজ করে দিয়েছেন। সেদিন পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে কম বোলার ছিলেন ওয়াসিম জুনিয়র। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন তিনি।

বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং স্বর্গে বাবর আজমের আগে ফিল্ডিং করা ঠিক ছিল কি না তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু স্পষ্টতই তার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না- কিউই দলের নির্মম ব্যাটিংই তার প্রমাণ। পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে স্পিন আক্রমণের লড়াইয়ে থাকা পাকিস্তান আজ এসেছে চার ফাস্ট বোলার নিয়ে। কোনো স্বীকৃত স্পিনার ছিল না। ফলে ইফতেখার আহমেদ ও আগা সালমান তাদের বোলিং কোটা পূরণ করেছেন।

প্রথমে ব্যাট করে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন কিউই ওপেনার। কিন্তু প্রথম ১৭ বলে তিনি খেলেন, ডেভন কনওয়ে এবং রাচিন রবীন্দ্র বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করে কোনো ঝুঁকি নেননি। পরের সাত বলে তিনবার বল পাঠান বাউন্ডারির ​​বাইরে (৪)। চিন্নাস্বামীর গ্যালারি থেকে 'রচিন রাচিন' বলে একটা আওয়াজ ভেসে এল। প্রথম পাওয়ার-প্লেতে বিনা উইকেটে ৬৬ রান করে নিউজিল্যান্ড।

১১তম ওভারে পাকিস্তানকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হাসান আলী। তার শর্ট ডেলিভারি কনওয়ের গ্লাভস স্পর্শ করে এবং উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান তাকে থামান। যা হাসানের শততম ওয়ানডে উইকেট। কয়েক ম্যাচের জন্য অলস ছিলেন কনওয়ে, ৩৯ বলে ৩৫ রান করার পর আজ ফিরেছেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটের জুটি পাকিস্তানি বোলারদের মনোবল বাড়িয়ে দেয়, চোট কাটিয়ে ফিরেছেন উইলিয়ামসন। দীর্ঘদিন ধরে ইনজুরির সঙ্গে লড়ছেন উইলিয়ামসন, কেন নিউজিল্যান্ড তাকে দলে রেখেছে তার শক্ত প্রমাণ ও উদাহরণ দিয়েছেন নিজেই। ইনজুরি থেকে ফিরে হাফ সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশ আজ দ্বিতীয় ইনিংসে করেছে ৯৫ রান।

১৮০ রানে থামে রবীন্দ্র-উইলিয়ামসন জুটি। উইলিয়ামসন চাইলে ধীরে ধীরে সেঞ্চুরি করতে পারতেন। কিন্তু পার্টটাইম অফস্পিনার ইফতেখার আহমেদের বলে ফরোয়ার্ড খেলতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে ধরা পড়েন তিনি। ৭৯ বলের ইনিংসে ১০টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন। এর আগে, রবীন্দ্র ৮৮ বলে বিশ্বকাপে তার তৃতীয় সেঞ্চুরি করেছিলেন। যা বিশ্বকাপে অভিষেকে কোনো ব্যাটসম্যানের এবং নিউজিল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি।

উইলিয়ামসন যখন প্যাভিলিয়নে ছিলেন, তখন কিউই দল মাত্র ৩৪.২ ওভারে ২৪৮ রান করেছে। ফলে পরবর্তী ব্যাটসম্যানদের জন্য সহজ হয়ে যায়। এছাড়াও, দলীয় সংগ্রহ বাড়ানোর ভাবনা নিয়ে ক্রিজে আসেন তিনি। যার ফল স্কোরবোর্ডে দেখা যাবে। রবীন্দ্র-উইলিয়ামসনের পর এখন পর্যন্ত যে সব ক্রিকেটার ব্যাটিং করেছেন তারা ১৪০+ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন। ওয়াসিমের শর্ট বলে ১০৮ রানে থেমে যায় রবীন্দ্রের ইনিংস। ৯৪ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ১৫টি চার ও একটি ছক্কা।

এছাড়া শেষ পর্যন্ত ঝড়ো ইনিংস খেলা ড্যারিল মিচেল ১৮ বলে ২৯ রান, মার্ক চ্যাপম্যান ২৭ বলে ৩৯ রান, গ্লেন ফিলিপস ২৫ বলে ৪১ এবং মিচেল স্যান্টনার ১৭ বলে ২৬ রান করেন।

পাকিস্তানের পক্ষে ওয়াসিম ৬০ রানে সর্বোচ্চ তিন উইকেট এবং হাসান, ইফতিখার ও রউফ একটি করে উইকেট নেন। বোলারদের দোহাই দিয়ে তাদের ব্যাটসম্যানদের কাজটা চরম 'অসম্ভব' হয়ে গেছে!

খেলা - এর সব খবর

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ