ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩১

কাতারে এসে কোম্পানি বা কফিল খুঁজে না পেলে যা করবেন বা যা করনীয়

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪আপডেট নিউজ
২০২১ জানুয়ারি ০১ ২১:০১:৫০
কাতারে এসে কোম্পানি বা কফিল খুঁজে না পেলে যা করবেন বা যা করনীয়

তবে এমতাবস্থায় আমার কী করণীয়?এ ধরণের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলতে হয়, বিশেষত কাতারে আসার পর এ সমস্যায় যারা ভোগেন, তাদের জন্য মনে রাখতে হবে, কাতারের আইনে ফ্রি ভিসা বলতে কিছু নেই।

কারণ কাতারের শ্রম আইনে বলা আছে, যে কোম্পানি বা ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে আপনার নামে ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, আপনাকে সেখানেই কাজ করতে হবে। ওই কোম্পানি বা ব্যাক্তি ছাড়া অন্যত্র কাজ করা অ;বৈ;ধ।

কাতারে আসার সময় যে কোম্পানির নামে আপনার ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, ওই কোম্পানির কাউকে পাওয়া না গেলে প্রথমে আপনি হাজির হবেন শ্রম মন্ত্রণালয় বা লেবার মিনিস্ট্রির লেবার অফিসে। দোহার দাফনায় অথবা সানাইয়ার আলআতিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় এই লেবার অফিসের শাখা রয়েছে।

এখানে যাওয়া সম্ভব না হলে অথবা এখানে সহযোগিতা না পেলে সরাসরি যেতে হবে কাতার পুলিশের সিআইডি অফিসে। সিআইডি অফিসে একটি আলাদা শাখা রয়েছে, যেটিকে টেকনিক্যাল বিভাগ বা আরবিতে ‘মাকতাব ফন্নি’ বলা হয়ে

থাকে। সেখানে ভিসার কপি দেখানোর পর তারা ওই কোম্পানির মালিক এবং অফিসের নম্বর বের করে দেবে। এরপর আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।মনে রাখবেন, আপনি যে ব্যক্তি বা কোম্পানির ভিসায় এসেছেন, ওই কোম্পানি বা ব্যক্তি ছাড়া আপনি বৈধ পরিচয়পত্র বা আইডি (ইকামা) পাবেন না।

যদি ওই কোম্পানি বা ব্যক্তি আপনাকে সহযোগিতা না করে অথবা ফোনে সাড়া না দেয়, তবে আবারও সিআইড অফিসে যেতে হবে।

সেক্ষেত্রে কাতার পুলিশ আপনাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। নিজে আরবি না জানলে আরবি ভাষায় একটি আবেদনপত্র টাইপ করিয়ে ভিসার কপিসহ নিয়ে যাবেন।

সাধারণত বাংলাদেশি কর্মীদের মনে কাতার পুলিশ সম্পর্কে যে ভয় রয়েছে, তা অমূলক। ভয় পেয়ে সিআইড অফিসে না গিয়ে কারও ওপর ভরসা করে লুকিয়ে থাকলে আপনি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বরং কাতারে আসার পর তিনমাসের মধ্যে যদি আপনার ভিসায় উল্লেখিত কোম্পানি বা ব্যক্তি আপনার জন্য আইডি ইস্যু করার ব্যবস্থা না করে, তবে সেক্ষেত্রে আপনার উচিত, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা।এই বিষয়ে কখনো কোনো অবহেলা করবেন না, আপনার পাশে কাউকে অবহেলা করতে দেখলে সতর্ক করবেন।

কারণ, আপনার জন্য আইডি ইস্যু করা ও আপনাকে কাজ দেওয়া ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উপর অবশ্য কর্তব্য। এটি না করলে কাতারের আইনে তার বিরু;দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আপনি যত দেরি করবেন, তত আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

অনেকে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে আসার আগে ছয়-সাত লাখ টাকা খরচ করেছেন। এখন ভিসায় ভালো কাজ না পেলে

কিন্তু মনে রাখতে হবে, যেহেতু এই টাকা আপনি বাংলাদেশে দিয়েছেন, কাজেই এর বিরুদ্ধে কাতারে অভিযোগ করে সুফল নাও পেতে পারেন। কারণ, ভিসা বিক্রি বা কেনা একটি দন্ডনীয় অপরাধ। আর কাতারের সীমানার বাইরে সংঘটিত অপরাধে কাতারের আইনি কর্তৃপক্ষ চাইলেও কিছু করার সুযোগ নেই।

তবে বাংলাদেশে এ সম্পর্কিত লেনদেনের প্রমাণ থাকলে আপনি সরাসরি বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

জেনে রাখা ভালো, কাতারে কাজ করতে এসে কারও ভয়ে অবৈধভাবে কখনো লুকিয়ে থাকবেন না। কারও মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না। বরং যত দ্রুত আপনি আইনের সহায়তা নেবেন, ততই আপনার মঙ্গল।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ



রে